মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

এপিটাফ-হুমায়ুন আহমেদ

                           


"অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো'
                                   সেই তো আমার আলো"
                                                                -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


এপিটাফের শুরুতে হুমায়ুন আহমেদ স্যার এটা লিখে রেখেছেন।বইটার নামের সাথে লিখাটার কি কোথাও মিল আছে?আছে সম্ভবত কিছুটা।স্যার আজ বেঁচে নাই;থাকলে তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম আমি যেমনটা ভাবছি মিলটা ঠিক তেমনটা কি না।
'এপিটাফ' শব্দটা প্রথম শুনি আমি সুমন ভাইয়ায়ের গলায়;
          "এপিটাফের লেখাগুলো
            পড়ি ঝাপসা চোখে।

         তুমি তো দিয়েছিলে মোরে কৃষ্ণচূড়া ফুল"

প্রতিদিনের মতই রিক্সায় করে স্কুল যাবার সময় একদিন আমার বন্ধু নাহিদকে(তাকে আমার ভাই বললেও খুব একটা বেশী বলা হে না) জিজ্ঞেস করলাম,"নাহিদ!এপিটাফ অর্থ জানিস?"
নাহিদ বললো,"কবরের উপরে মৃতের সম্পর্কে লিখা থাকে না একরকমের সেটা।"
কথাটা শুনার পর মন খারাপ হয়েছিল কিছুটা।
পরে সে আবার জিজ্ঞেস করলো,"কোথায় পাইলি(রংপুরের এক্সেন্ট,মাঝেমধ্যে লেখায় এটা চলে আসে,এটা ঠিক করতে চাই না)?"
-"একটা বই এর নাম দেখলাম"
-"হুমায়ুন স্যারেরটা"
-"হ্যা"
-"পড়ছিস?বইটা সুন্দর কিন্তু।"
-"না পড়ি নাই"
নামটা জেনেছিলাম ক্লাস এইটে থাকাতে আজ অনার্স প্রথম বর্ষে।দুইদিন আগে বাসে বসে বইটা শেষ করেছি পড়া টিউশনি যাবার পথে।বইটা মনিসার থেকে ধার নেয়া,তনু আন্টির বই। বাস ঠিক যখন মনিসাদের বাড়ির মোড়ে থামলো ঠিক তখনই আমার বইটা পড়া শেষ হয়ে গেছে,এই বিষয়টা বেশ ইন্টেরেস্টিং লাগছে আমার।আর তার থেকেও জোস বিষয় হলো,হাতের বইটা প্রথম মুদ্রণ এবং বইটা বয়সে আমার থেকে বড়।যাই হোক বইটা উদ্দেশ্য করে এই লেখা,আর বই সম্পর্কেই কিছু লিখি নি;আমার কাজকর্মই এমন অগোছালো।খারাপ কি?হলাম নাহয় একটু স্ক্যাটার্ড।

এপিটাফ বইটা একটা পিচ্চি মেয়ে নাতাশার মনের কথাবার্তা নিয়ে লিখা।
মেয়েটা অসুস্থ,তার অনেক বড় একটা রোগ হয়েছে।
তার মা দিলশাদ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মহিলা,যিনি দিনরাত পাগলের মত ছুটছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।একজন মাতাল,বাউন্ডুলে স্বামীর অপেক্ষায় তিনি থাকতে পারেন নি,মেয়েকে বাঁচাতে তাই তিনি নিজেই নেমে পরেছেন।
বইটায় দিলশাদের প্রতিনিয়ত মানসিক,সামাজিক চাপের দিকগুলোও আলাদাভাবে ফুটে উঠেছে।কিভাবে তাকে ছোট হতে হয় তার কলেজের বান্ধুবির কাছে এমনকি নিজের দুলাভাইয়ের কাছেও তা দেখানো হয়।
সব মিলায় মধ্যবিত্তের জীবনে একটা মরণব্যাধী যে কিরকম প্রভাব রাখতে পারে তা স্যার দেখিয়েছেন তাঁর নিজস্ব ঢঙ্গে।
শেষমেসে একদিন চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় নাতাশাকে বিদেশে। আর সবার মনে গেঁথে রেখে যায় অজস্র স্মৃতি,অনুভূতি।

পুনশ্চঃ আমরা সমসময় এপিটাফে মৃতের পরিচয়ে তার নাম,জন্ম-মৃত্যু এসব লিখি।কখনও কি কল্পনা করেছি ঐ নামটার বাহিরেও একটা সত্ত্বা আছে যেটা আমরা একটা শব্দে প্রকাশ করতে পারি?আচ্ছা আমার পরিচয় যদি আমার নাম না হয়ে অন্যকিছু হতো যদি-আমার কাজ,আমার ব্যাবহার বা কিছু একটা এমন শব্দ যা দিয়ে শুধু আমাকেই ডিফাইন করা যায়,যেটা আমার 'এপিটাফ'এ লিখা হবে।নাকি আমরা জেনেও তা করি না এই ভয়ে যে এতশত মনুষের পরিচয় দিতে গিয়ে ভাষায় শব্দসংকট না দেখা দেয়।