রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাতুল একটি ভেক্টর রাশি


একটি গুবড়ে পোকা ভনভন করছে,
ভনভন করছে জানালার পাশের নীল রঙের মীরা টেবিল ফ্যান;
শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস আসছে জানালার পর্দা ঘেঁষে
হাতে লেখা 'শোঁ শোঁ' শব্দের তালব্য-শ এর মতই রাতুলের মন খারাপ;
খানিক বাদেই আজান পড়বে মসজিদে,
পাখিরা কালচে নীল আকাশে উত্তর থেকে দক্ষিণে উড়ে যাবে;
অথচ তা দেখেও রাতুলের মন 'খ' এর মত খুশি হবে না।
তার মস্তিষ্কে এখন বাংলা যুক্ত-খ(ক্ষ) এর মত প্যাঁচালো ভাবনা খেলছে।
এসব ভাবতে ভাবতেই রাতুল ওদের ছাদের প্রাচীরের কাছে চলে গেল আপন মনে,
প্রাচীরে লাফ দিয়ে উঠে বসতেই ওর পায়ে সরকারি কোয়ার্টারের হলদে ডিস্ট্যাম্পার
ঘষা লেগে গেল!
পায়ের হলদে রঙের দিকে তাকিয়ে আছে, মনে মনে ভাবছে -
"সবকিছু যদি ডিস্ট্যাম্পারের মত হইতো! একটা ডলা দিয়া সব বদলায়া ফালাইতাম।
ঘষা দিয়া নিচের পীচটারে নীল পানি বানায় ফেলতাম।"
(মনের ভাবনা শেষ না হতেই পায়ের পাতা দুইটার ফাক দিয়া দেখে নিচের রাস্তাটা নীল পানিতে ভাসি গেসে, রাতুলের ভ্রু কুঁচকে গেল )
নিচের পানিতে রাতুলের মুখ দেখাচ্ছে,
আকাশের গোলাপি মেঘ দেখা যায় রাতুলের মাথার পিছে।
 জোকারের মত চুল দেখে রাতুল আরও বেশি অবাক হয়ে গেল।
একটা ইঁদুর এসে পুরো ছবিটার উপর দিয়ে দৌড়ে চলে গেল,
পায়ের  তলার সবগুলো বাড়িকে,
পাশের বস্তিটাকে পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে চলে গেল চার গলি পরের
দোতলা বাসাটায়।
ও বাসার ছাদে নীনা আকাশের দিকে চেয়ে আছে। নীনার দৃষ্টি এখন একটি ভেক্টর রাশি।
রাতুল অবাক হয়ে দেখলো নীনার মুখে কটকটে লাল আকাশের ছায়া,
ক্যাসিনোতে যেমন লাল আলোর ভিন্টেজ ভাব থাকে অমন,
সেই আলোতে নীনাকে প্রাপ্ত বয়ষ্কা নারীর মত লাগছে,
রাতুলের মনে হচ্ছে নীনা ওর খুব কাছে,
নীরা ছাদের কাপড় শুকানোর  বাঁশের খুঁটি ধরে দুলে দুলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
রাতুল দেখে,
খুঁটিটার উপর পরগাছার মত রাধাচূড়া।
ফুলগুলো সিনেমার মত ধীরে ধীরে ঘুড়তে ঘুড়তে পড়ছে-
নীনাকে খুব খুশি লাগছে রাতুলের।
নীনা কাঁশটি তুলে ওর দুই পায়ের ফাকে নিয়ে
স্কার্ট পেচিয়ে চড়ে বসতেই হ্যারি পটারের মত আকাশে ভাসতে লাগলো।
রাতুল স্বর-এ-'অ' পড়ার মত বড় করে মুখ হা করে আকাশে চাইলো,
সে এখন নীনার উড়ে বেড়ানো দেখছে,
পাখির মত করে উড়ে বেড়াচ্ছে।
উড়তে উড়তে অনেক উপরের আকাশে গেল,
নীনাকে দেখতে গুবড়ে পোকার মত ছোট লাগছে,
কিন্তু রাতুল খুব খুশি,
ছোট্ট বাচ্চাদের মত করে হাত তালি দিচ্ছে,
গোলাপি মেঘ থেকে গুবড়ে পোকাটা ঘুড়তে ঘুড়তে নিচে আসছে।


রাতুল জোড়ে শ্বাস ফেললো,
নীচে তাকায় দেখে নীল পানিতে একটা শুকনা বাঁশ ভাসতেছে;
রাতুল বাঁশটা ধরতে লাফ দিল।

এখন রাতুল কোন ভেক্টর?

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯

‘ডাকসু’ নিয়ে আমার ভাবনা


 ছবি সংগ্রহঃ ইন্টারনেট
আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের মত, আসলে এভাবে এনালজি দিলে আমার কাছে ব্যাখ্যা করতে সুবিধা হয়। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে যেমন জনগণ হয় চালিকা শক্তি, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চালিকা শক্তি সাধারণ শিক্ষার্থী। আরেকটু ডিটেইলে যাই। একটা দেশের জন্ম দিলেই যেমন কাজ শেষ হয়ে যায় না, তেমনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। একটা রাষ্ট্রের সব মানুষের বেঁচে থাকার জন্য টাকাপয়সার দরকার( এক কথায় বললাম ), বিশ্ববিদ্যালয়েরও তাই। রাষ্ট্র সেজন্য কি করে? মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মিটাতে রাষ্ট্র তার জনশক্তি ব্যাবহার করে উৎপাদন করায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজও তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে বা কাঠামো দান করে। তো রাষ্ট্রের উৎপাদন কাজ এবং জনগণের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার কাজ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে, যার কাজ এটা নিশ্চিত করা যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের উৎপাদন নির্বিঘ্নে ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও তেমনটা কাজই করে, প্রক্টোরিয়াল টিম আমাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখে, হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুস্থ আবাসনের বিষয়গুলো দেখে সবমিলায় আসলে এটা নিশ্চিত করে যে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে পারছে কি না! এখন সাধারণ জনগণের উৎপাদনের সঠিক ব্যাবহার হচ্ছে কি না এবং রাষ্ট্র জনগণকে কি কি সুবিধা দিবে সেসবের মাঝে সমন্বয় করার কাজ করেন জনপ্রতিনিধিরা। আরেকটু সহজ করে বললে রাষ্ট্র জনগণের পরিশ্রমের ঠিক ব্যাবহা করছে কি না, জনগণের সুস্থ জীবনের প্রয়োজন মিটাচ্ছে কি না এসব বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণ ও রাষ্ট্রের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে মন্ত্রী – প্রতিমন্ত্রীরা। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের জন্যও এমন প্রতিনিধি অবশ্যই দরকার যারা নিশ্চিত করবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনগুলো পূরণ হচ্ছে কি না। মানে মন্ত্রী – প্রতিমন্ত্রীর মতন একটা কেবিনেট দরকার যারা আমাদের কথাগুলোকে তুলে ধরবে। রাষ্ট্র যেমন রাজস্ব আদায় করে কুলাতে না পারলে বিদেশ থেকে টাকা নেয়, বিশ্ববিদ্যালয়ও তেমনি শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া অর্থ কিংবা উৎপাদিত গবেষণার থেকে পাওয়া অর্থতে কুলাতে না পারলে সকারের থেকে টাকা নেয়। যাই হোক, যেহেতু জনগণই রাষ্ট্র! জনগণের সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের মেলবন্ধনের জন্য যেমন সংসদ আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ‘ডাকসু’। তারা কি করবে? আমাদের সৃজনশীলতাকে, আমাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের থেকে শুনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবে। এতদিন না থাকায় কি হয়েছে? আমরা আমাদের প্রয়োজনগুলো তুলে ধরতে পারি নাই। যেমন – সারাবিশ্বেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম প্রধান কাজ গবেষণা করা, যে গবেষণা একটা দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে অর্থাৎ রাষ্ট্রের উৎপাদনের একটা বড় অংশ হলো বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎপাদনেরও প্রধান অংশই হলো গবেষণা। শুধুই কি গবেষণা? না, তা না! গবেষক তো একটা নির্দিষ্ট পেশা। এটা ছাড়াও ‘শিক্ষিত ব্যাক্তি ও সুন্দর মানুষ’( দুজন কিন্তু একই! ) রাষ্ট্রকে উপহার দেয়া হচ্ছে তার কাজ। এখন যে মানুষ পাতলা ডাল খায়, সারা দিনরাত ছারপোকার কামড় খায়, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে, কেউ অন্যায় করলে মুখ তুলে ভদ্রতা রেখে কথা বলতে পারে না, যার প্রতি সন্ধ্যায় চিন্তা করতে হয় রাতে ঘুমানোর জায়গাটা আরেকটু বাড়লো কি না, গবেষণা করার জন্য দেশের সমস্যা নিয়ে না ভেবে মাদকের কথা ভাবে তাদের দিয়ে তো দেশের উন্নতি হবে না। এসব ব্যাপার নিশ্চিত করতে একই সাথে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আর সবচেয়ে বড় কথা একজন শিক্ষার্থীর ভিতর থেকে ‘সুন্দর ও সৃজনশীল’ মানুষকে( এবারও দুজন একব্যাক্তি! ) টেনে বের করার কাজটা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন( কারণ, শিক্ষার্থীরাই এটা বেছে নিয়েছে )। এই প্রশাসন আর শিক্ষার্থীর মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করবে ‘ডাকসু’। এখন কথা হচ্ছে, আমি কেমন প্রতিনিধি চাই? এটা সবার একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আমারটুকুন আমি জানায় যাই যাতে করে যারা এখনও বুঝতে পারছেনা না নিজেরা কি চান তাদের একটু সুবিধা হবে। আমি চাই সব শিক্ষার্থীর মাঝে রাজনৈতিক ভাবধারা গড়ে উঠুক, আমি চাই সবাই নিজ নিজ হলে সুন্দর পরিবেশে থাকতে পাক, আমি চাই সবাই নিজেদের সংস্কৃতিকে খোজার চেষ্টা করুক, আমি চাই সবাই সহনশীল হয়ে উঠুক, আমি চাই ক্যাম্পাস থেকে মাদক – মাদক ও প্রস্রাবের কটু গন্ধ উঠে যাক, আমি চাই সবাই পাগলামো( সৃজনশীলতা ) করে করে নতুন নতুন আবিষ্কার করুক, বড় বড় কাজ করুক, লাইব্রেরিতে সিট সংকট কমুক, গবেষণার অর্থ ‘জাতীয় চাহিদা’ অনুসারে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে বণ্টন হোক, বিশ্ববিদ্যালয়টা রঙ্গিন হয়ে উঠুক( উজ্জ্বল রঙ সবার মনকে সুন্দর করে! ), বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে প্রতিবছর একটা ন্যুনতম গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেঁধে দেয়া হোক, কেবলমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া দেখে শিক্ষক নিয়োগ নেয়া বন্ধ হোক, ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হোক এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য লিজভিত্তিক ও সহনীয় যানবাহনের ব্যাবস্থা করা হোক, দেশের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রান্তিলগ্নে সকল শিক্ষার্থীর গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিতে এবং তাদেরকে নেতৃত্ব দেবার মতন নেতা তৈরিরও সুযোগ হোক।
আমার এসকল চাওয়াকে কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার এবং বাস্তবায়ন করার কাজ যে ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী ভালভাবে করতে পারবে আমি তাকেই নির্বাচিত করতে চাইব। এসব যেন চাইতে পারি সে চাওয়ার জায়গাটাই হলো ডাকসু। একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়।।