রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাতুল একটি ভেক্টর রাশি


একটি গুবড়ে পোকা ভনভন করছে,
ভনভন করছে জানালার পাশের নীল রঙের মীরা টেবিল ফ্যান;
শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস আসছে জানালার পর্দা ঘেঁষে
হাতে লেখা 'শোঁ শোঁ' শব্দের তালব্য-শ এর মতই রাতুলের মন খারাপ;
খানিক বাদেই আজান পড়বে মসজিদে,
পাখিরা কালচে নীল আকাশে উত্তর থেকে দক্ষিণে উড়ে যাবে;
অথচ তা দেখেও রাতুলের মন 'খ' এর মত খুশি হবে না।
তার মস্তিষ্কে এখন বাংলা যুক্ত-খ(ক্ষ) এর মত প্যাঁচালো ভাবনা খেলছে।
এসব ভাবতে ভাবতেই রাতুল ওদের ছাদের প্রাচীরের কাছে চলে গেল আপন মনে,
প্রাচীরে লাফ দিয়ে উঠে বসতেই ওর পায়ে সরকারি কোয়ার্টারের হলদে ডিস্ট্যাম্পার
ঘষা লেগে গেল!
পায়ের হলদে রঙের দিকে তাকিয়ে আছে, মনে মনে ভাবছে -
"সবকিছু যদি ডিস্ট্যাম্পারের মত হইতো! একটা ডলা দিয়া সব বদলায়া ফালাইতাম।
ঘষা দিয়া নিচের পীচটারে নীল পানি বানায় ফেলতাম।"
(মনের ভাবনা শেষ না হতেই পায়ের পাতা দুইটার ফাক দিয়া দেখে নিচের রাস্তাটা নীল পানিতে ভাসি গেসে, রাতুলের ভ্রু কুঁচকে গেল )
নিচের পানিতে রাতুলের মুখ দেখাচ্ছে,
আকাশের গোলাপি মেঘ দেখা যায় রাতুলের মাথার পিছে।
 জোকারের মত চুল দেখে রাতুল আরও বেশি অবাক হয়ে গেল।
একটা ইঁদুর এসে পুরো ছবিটার উপর দিয়ে দৌড়ে চলে গেল,
পায়ের  তলার সবগুলো বাড়িকে,
পাশের বস্তিটাকে পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে চলে গেল চার গলি পরের
দোতলা বাসাটায়।
ও বাসার ছাদে নীনা আকাশের দিকে চেয়ে আছে। নীনার দৃষ্টি এখন একটি ভেক্টর রাশি।
রাতুল অবাক হয়ে দেখলো নীনার মুখে কটকটে লাল আকাশের ছায়া,
ক্যাসিনোতে যেমন লাল আলোর ভিন্টেজ ভাব থাকে অমন,
সেই আলোতে নীনাকে প্রাপ্ত বয়ষ্কা নারীর মত লাগছে,
রাতুলের মনে হচ্ছে নীনা ওর খুব কাছে,
নীরা ছাদের কাপড় শুকানোর  বাঁশের খুঁটি ধরে দুলে দুলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
রাতুল দেখে,
খুঁটিটার উপর পরগাছার মত রাধাচূড়া।
ফুলগুলো সিনেমার মত ধীরে ধীরে ঘুড়তে ঘুড়তে পড়ছে-
নীনাকে খুব খুশি লাগছে রাতুলের।
নীনা কাঁশটি তুলে ওর দুই পায়ের ফাকে নিয়ে
স্কার্ট পেচিয়ে চড়ে বসতেই হ্যারি পটারের মত আকাশে ভাসতে লাগলো।
রাতুল স্বর-এ-'অ' পড়ার মত বড় করে মুখ হা করে আকাশে চাইলো,
সে এখন নীনার উড়ে বেড়ানো দেখছে,
পাখির মত করে উড়ে বেড়াচ্ছে।
উড়তে উড়তে অনেক উপরের আকাশে গেল,
নীনাকে দেখতে গুবড়ে পোকার মত ছোট লাগছে,
কিন্তু রাতুল খুব খুশি,
ছোট্ট বাচ্চাদের মত করে হাত তালি দিচ্ছে,
গোলাপি মেঘ থেকে গুবড়ে পোকাটা ঘুড়তে ঘুড়তে নিচে আসছে।


রাতুল জোড়ে শ্বাস ফেললো,
নীচে তাকায় দেখে নীল পানিতে একটা শুকনা বাঁশ ভাসতেছে;
রাতুল বাঁশটা ধরতে লাফ দিল।

এখন রাতুল কোন ভেক্টর?

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯

‘ডাকসু’ নিয়ে আমার ভাবনা


 ছবি সংগ্রহঃ ইন্টারনেট
আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের মত, আসলে এভাবে এনালজি দিলে আমার কাছে ব্যাখ্যা করতে সুবিধা হয়। একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে যেমন জনগণ হয় চালিকা শক্তি, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চালিকা শক্তি সাধারণ শিক্ষার্থী। আরেকটু ডিটেইলে যাই। একটা দেশের জন্ম দিলেই যেমন কাজ শেষ হয়ে যায় না, তেমনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। একটা রাষ্ট্রের সব মানুষের বেঁচে থাকার জন্য টাকাপয়সার দরকার( এক কথায় বললাম ), বিশ্ববিদ্যালয়েরও তাই। রাষ্ট্র সেজন্য কি করে? মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো মিটাতে রাষ্ট্র তার জনশক্তি ব্যাবহার করে উৎপাদন করায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজও তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে বা কাঠামো দান করে। তো রাষ্ট্রের উৎপাদন কাজ এবং জনগণের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার কাজ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে, যার কাজ এটা নিশ্চিত করা যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের উৎপাদন নির্বিঘ্নে ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও তেমনটা কাজই করে, প্রক্টোরিয়াল টিম আমাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখে, হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুস্থ আবাসনের বিষয়গুলো দেখে সবমিলায় আসলে এটা নিশ্চিত করে যে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে পারছে কি না! এখন সাধারণ জনগণের উৎপাদনের সঠিক ব্যাবহার হচ্ছে কি না এবং রাষ্ট্র জনগণকে কি কি সুবিধা দিবে সেসবের মাঝে সমন্বয় করার কাজ করেন জনপ্রতিনিধিরা। আরেকটু সহজ করে বললে রাষ্ট্র জনগণের পরিশ্রমের ঠিক ব্যাবহা করছে কি না, জনগণের সুস্থ জীবনের প্রয়োজন মিটাচ্ছে কি না এসব বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণ ও রাষ্ট্রের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে মন্ত্রী – প্রতিমন্ত্রীরা। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের জন্যও এমন প্রতিনিধি অবশ্যই দরকার যারা নিশ্চিত করবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনগুলো পূরণ হচ্ছে কি না। মানে মন্ত্রী – প্রতিমন্ত্রীর মতন একটা কেবিনেট দরকার যারা আমাদের কথাগুলোকে তুলে ধরবে। রাষ্ট্র যেমন রাজস্ব আদায় করে কুলাতে না পারলে বিদেশ থেকে টাকা নেয়, বিশ্ববিদ্যালয়ও তেমনি শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া অর্থ কিংবা উৎপাদিত গবেষণার থেকে পাওয়া অর্থতে কুলাতে না পারলে সকারের থেকে টাকা নেয়। যাই হোক, যেহেতু জনগণই রাষ্ট্র! জনগণের সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের মেলবন্ধনের জন্য যেমন সংসদ আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ‘ডাকসু’। তারা কি করবে? আমাদের সৃজনশীলতাকে, আমাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের থেকে শুনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবে। এতদিন না থাকায় কি হয়েছে? আমরা আমাদের প্রয়োজনগুলো তুলে ধরতে পারি নাই। যেমন – সারাবিশ্বেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম প্রধান কাজ গবেষণা করা, যে গবেষণা একটা দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে অর্থাৎ রাষ্ট্রের উৎপাদনের একটা বড় অংশ হলো বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎপাদনেরও প্রধান অংশই হলো গবেষণা। শুধুই কি গবেষণা? না, তা না! গবেষক তো একটা নির্দিষ্ট পেশা। এটা ছাড়াও ‘শিক্ষিত ব্যাক্তি ও সুন্দর মানুষ’( দুজন কিন্তু একই! ) রাষ্ট্রকে উপহার দেয়া হচ্ছে তার কাজ। এখন যে মানুষ পাতলা ডাল খায়, সারা দিনরাত ছারপোকার কামড় খায়, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে, কেউ অন্যায় করলে মুখ তুলে ভদ্রতা রেখে কথা বলতে পারে না, যার প্রতি সন্ধ্যায় চিন্তা করতে হয় রাতে ঘুমানোর জায়গাটা আরেকটু বাড়লো কি না, গবেষণা করার জন্য দেশের সমস্যা নিয়ে না ভেবে মাদকের কথা ভাবে তাদের দিয়ে তো দেশের উন্নতি হবে না। এসব ব্যাপার নিশ্চিত করতে একই সাথে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আর সবচেয়ে বড় কথা একজন শিক্ষার্থীর ভিতর থেকে ‘সুন্দর ও সৃজনশীল’ মানুষকে( এবারও দুজন একব্যাক্তি! ) টেনে বের করার কাজটা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন( কারণ, শিক্ষার্থীরাই এটা বেছে নিয়েছে )। এই প্রশাসন আর শিক্ষার্থীর মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করবে ‘ডাকসু’। এখন কথা হচ্ছে, আমি কেমন প্রতিনিধি চাই? এটা সবার একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আমারটুকুন আমি জানায় যাই যাতে করে যারা এখনও বুঝতে পারছেনা না নিজেরা কি চান তাদের একটু সুবিধা হবে। আমি চাই সব শিক্ষার্থীর মাঝে রাজনৈতিক ভাবধারা গড়ে উঠুক, আমি চাই সবাই নিজ নিজ হলে সুন্দর পরিবেশে থাকতে পাক, আমি চাই সবাই নিজেদের সংস্কৃতিকে খোজার চেষ্টা করুক, আমি চাই সবাই সহনশীল হয়ে উঠুক, আমি চাই ক্যাম্পাস থেকে মাদক – মাদক ও প্রস্রাবের কটু গন্ধ উঠে যাক, আমি চাই সবাই পাগলামো( সৃজনশীলতা ) করে করে নতুন নতুন আবিষ্কার করুক, বড় বড় কাজ করুক, লাইব্রেরিতে সিট সংকট কমুক, গবেষণার অর্থ ‘জাতীয় চাহিদা’ অনুসারে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে বণ্টন হোক, বিশ্ববিদ্যালয়টা রঙ্গিন হয়ে উঠুক( উজ্জ্বল রঙ সবার মনকে সুন্দর করে! ), বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে প্রতিবছর একটা ন্যুনতম গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেঁধে দেয়া হোক, কেবলমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া দেখে শিক্ষক নিয়োগ নেয়া বন্ধ হোক, ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হোক এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য লিজভিত্তিক ও সহনীয় যানবাহনের ব্যাবস্থা করা হোক, দেশের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রান্তিলগ্নে সকল শিক্ষার্থীর গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিতে এবং তাদেরকে নেতৃত্ব দেবার মতন নেতা তৈরিরও সুযোগ হোক।
আমার এসকল চাওয়াকে কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার এবং বাস্তবায়ন করার কাজ যে ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী ভালভাবে করতে পারবে আমি তাকেই নির্বাচিত করতে চাইব। এসব যেন চাইতে পারি সে চাওয়ার জায়গাটাই হলো ডাকসু। একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়।।

শনিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮

চারুলতা

নামটা নেয়া 'মেধা'র আঁকা একটা ছবির থেকে আর ছবিটি এই লিংক থেকে,http://tadalafilforsale.net/group/rain-drops/
ঘরের বাহির হইতে আসে হাসনাহেনার বাস,
ভোরের বরিষণে-
চারিদিকে স্নিগ্ধতা ছড়ায়।।
আর আমি? দূর হইতে দাড়ায়ে দেখি-
                 
                   সেই সে চপলার মায়াকাজল আঁখি,
                   তাকায়ে রহিছে বাতায়নে,
                   ধুলায় জড়ায়ে তাহার অন্তর ঘেরখানি।।
                   শীতল বাতাসে ভাসমান তাঁহার  কেশ,
                   আনমনে সে চাহিয়া রহিছে;
                   জানিনে কিসেতে ক্লেশ।।

নাহি তাঁহাতে পুষ্প-মালিকা, নাহি তাঁহাতে কনকচাঁপার কুঞ্জ;
কর্ণ জুড়িয়া কেশদাম হায়, করিয়া বেড়ায় গুঞ্জন।
হঠাৎ-বাজ পড়িলো মনে!
ফিরি চাইলো যখন-
তাঁর হরিণ কাজল আঁখি,
তাঁর মার্জারি চলন;
মোর এই ক্ষুদ্র যৌবনকালে বিধাতার শ্রেষ্ঠতম উপহার।

মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

এপিটাফ-হুমায়ুন আহমেদ

                           


"অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো'
                                   সেই তো আমার আলো"
                                                                -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


এপিটাফের শুরুতে হুমায়ুন আহমেদ স্যার এটা লিখে রেখেছেন।বইটার নামের সাথে লিখাটার কি কোথাও মিল আছে?আছে সম্ভবত কিছুটা।স্যার আজ বেঁচে নাই;থাকলে তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম আমি যেমনটা ভাবছি মিলটা ঠিক তেমনটা কি না।
'এপিটাফ' শব্দটা প্রথম শুনি আমি সুমন ভাইয়ায়ের গলায়;
          "এপিটাফের লেখাগুলো
            পড়ি ঝাপসা চোখে।

         তুমি তো দিয়েছিলে মোরে কৃষ্ণচূড়া ফুল"

প্রতিদিনের মতই রিক্সায় করে স্কুল যাবার সময় একদিন আমার বন্ধু নাহিদকে(তাকে আমার ভাই বললেও খুব একটা বেশী বলা হে না) জিজ্ঞেস করলাম,"নাহিদ!এপিটাফ অর্থ জানিস?"
নাহিদ বললো,"কবরের উপরে মৃতের সম্পর্কে লিখা থাকে না একরকমের সেটা।"
কথাটা শুনার পর মন খারাপ হয়েছিল কিছুটা।
পরে সে আবার জিজ্ঞেস করলো,"কোথায় পাইলি(রংপুরের এক্সেন্ট,মাঝেমধ্যে লেখায় এটা চলে আসে,এটা ঠিক করতে চাই না)?"
-"একটা বই এর নাম দেখলাম"
-"হুমায়ুন স্যারেরটা"
-"হ্যা"
-"পড়ছিস?বইটা সুন্দর কিন্তু।"
-"না পড়ি নাই"
নামটা জেনেছিলাম ক্লাস এইটে থাকাতে আজ অনার্স প্রথম বর্ষে।দুইদিন আগে বাসে বসে বইটা শেষ করেছি পড়া টিউশনি যাবার পথে।বইটা মনিসার থেকে ধার নেয়া,তনু আন্টির বই। বাস ঠিক যখন মনিসাদের বাড়ির মোড়ে থামলো ঠিক তখনই আমার বইটা পড়া শেষ হয়ে গেছে,এই বিষয়টা বেশ ইন্টেরেস্টিং লাগছে আমার।আর তার থেকেও জোস বিষয় হলো,হাতের বইটা প্রথম মুদ্রণ এবং বইটা বয়সে আমার থেকে বড়।যাই হোক বইটা উদ্দেশ্য করে এই লেখা,আর বই সম্পর্কেই কিছু লিখি নি;আমার কাজকর্মই এমন অগোছালো।খারাপ কি?হলাম নাহয় একটু স্ক্যাটার্ড।

এপিটাফ বইটা একটা পিচ্চি মেয়ে নাতাশার মনের কথাবার্তা নিয়ে লিখা।
মেয়েটা অসুস্থ,তার অনেক বড় একটা রোগ হয়েছে।
তার মা দিলশাদ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মহিলা,যিনি দিনরাত পাগলের মত ছুটছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।একজন মাতাল,বাউন্ডুলে স্বামীর অপেক্ষায় তিনি থাকতে পারেন নি,মেয়েকে বাঁচাতে তাই তিনি নিজেই নেমে পরেছেন।
বইটায় দিলশাদের প্রতিনিয়ত মানসিক,সামাজিক চাপের দিকগুলোও আলাদাভাবে ফুটে উঠেছে।কিভাবে তাকে ছোট হতে হয় তার কলেজের বান্ধুবির কাছে এমনকি নিজের দুলাভাইয়ের কাছেও তা দেখানো হয়।
সব মিলায় মধ্যবিত্তের জীবনে একটা মরণব্যাধী যে কিরকম প্রভাব রাখতে পারে তা স্যার দেখিয়েছেন তাঁর নিজস্ব ঢঙ্গে।
শেষমেসে একদিন চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় নাতাশাকে বিদেশে। আর সবার মনে গেঁথে রেখে যায় অজস্র স্মৃতি,অনুভূতি।

পুনশ্চঃ আমরা সমসময় এপিটাফে মৃতের পরিচয়ে তার নাম,জন্ম-মৃত্যু এসব লিখি।কখনও কি কল্পনা করেছি ঐ নামটার বাহিরেও একটা সত্ত্বা আছে যেটা আমরা একটা শব্দে প্রকাশ করতে পারি?আচ্ছা আমার পরিচয় যদি আমার নাম না হয়ে অন্যকিছু হতো যদি-আমার কাজ,আমার ব্যাবহার বা কিছু একটা এমন শব্দ যা দিয়ে শুধু আমাকেই ডিফাইন করা যায়,যেটা আমার 'এপিটাফ'এ লিখা হবে।নাকি আমরা জেনেও তা করি না এই ভয়ে যে এতশত মনুষের পরিচয় দিতে গিয়ে ভাষায় শব্দসংকট না দেখা দেয়। 

শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭

QUOTES

্ভাইয়া ভাল লিখেন https://bn.maateen.me/motivational-2nd-part/ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে সবাই আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়া উক্তিগুলো পড়তে বলে আমার কাজেও দেয়।তাই আমিও সবাইকে বলি।আসলে উক্তিগুলো পড়ে নিজেই নিজেকে কোনও একটা মোটিভ দিয়ে বসি,সেটাই আসল খোরাক।

শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭

একটি অপ্রকাশিত ফেইসবুক স্ট্যাটাস

কিছুই করার নেই,এসব কেবলমাত্র শিক্ষকদের অবহেলা;তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাস্ততা আজ শিক্ষার্থীদের কে ভিতরে ভিতরে খুন করছে ।।
সেসব শিক্ষকদের জন্য সমবেদনা যারা বদলানোর জন্য ডিপার্টমেন্টে আছেন , পরাজিতর মত তাঁদের কে বলতে হয় একদিন আপনারা নিজেরাই বদলেন যাবেন তবুও ডিপার্টমেন্ট বদলাবেনা;কারণ
"ঢাবি ফিজিক্স আলাদা" 

সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৭

আমি তোমার চোখের কালো চাই

আমি তোমার ভালোবাসা চাই
তাই তোমায় ভালোবেসে যাই
বল আমার এমন চাহিদায় কি মন দেওয়া যায়?
জীবন দেওয়া যায়?

আমি তোমার ভালোবাসা চাই
তাই তোমায় ভালোবেসে যাই
বল আমার এমন চাহিদায় কি মন দেওয়া যায়?
জীবন দেওয়া যায়?
হৃদয় দেওয়া যায়?
শরীর দেওয়া যায়?
না না না না না না না না না না না
না না না না না না না না না
না না না না না না
না না না না

আমি তোমায়, তোমার দেহকে
বিশ্বাস আর সন্দেহকে
খুঁজি হঠাত হঠতকারিতায় ... চিনি না তোমায়

আমি তোমায়, তোমার দেহকে
বিশ্বাস আর সন্দেহকে
খুঁজি হঠাত হঠতকারিতায় ... চিনি না তোমায়
অনামিকা বলে ডাকতে পারি কি তোমায়।

https://www.youtube.com/watch?v=iHZRqc-E1sg&index=23&list=PL03F752D76A6EAE08

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

বৃষ্টি- কোনও কবিতা নয়

বৃষ্টি একটি স্মৃতিময়তার নাম,
চা এর কাপে বৃষ্টি,
ক্লাস কামাই করার উত্কৃষ্ট ওজুহাত বৃষ্টি,
মা এর পেটে যখন প্রথম সন্তান আসে,তখন তার চোখে ঝড়ে বৃষ্টি;
কদম গাছের আকাঙ্ক্ষা বৃষ্টি,
পাড়ার ছোট্ট পোলাপানের লাফালাফি এনে দেয়া বৃষ্টি;
অপরিপক্ক কোনও খেলয়ারের প্রথম ফুটবল শট এনে দ্যায় বৃষ্টি;

আচমকা কোনও কবির জন্ম দ্যায় বৃষ্টি;
প্রাইভেটে দেখা প্রথম ক্রাশ খাওয়া রমণী বৃষ্টি;
মুঠোফোনে প্রেয়সীর মন ছুঁয়ে যাওয়া ফোনালাপ দ্যায় বৃষ্টি;
হুঠ করে কোনও ফটোগ্রাফারের কিংবা কোনও আর্টিস্টের জন্ম দিয়ে ফেলে বৃষ্টি; 

মস্তিষ্কের নিউরনে খেলে যাওয়া যতো সূত্র,হিসেব,ক্যালকুলেশন ভুলায় দিয়ে মন্টাকে উড়ায় নিয়ে যায় বরষার এই বৃষ্টি।।

শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭

এই শহরের আর্তনাদ

এই শহরে আজ প্রতিটা বৃষ্টির ফোঁটায় আমার ক্লান্তিরা আর্তনাদ করে,
আমি তাই প্রশান্তি খুঁজে বেড়াই নিউমার্কেট,ফুলার রোড কখনও বা শাহবাগে;
আর্টগ্যালারির পাশে কাঠগোলাপের গাছটা?
গোলাপের পাপড়ি চুয়ে পরা বৃষ্টির ফোটায় তোমার ছবি ধরে রাখা আছে;
এই বাংলার মায়ায় অদ্ভুত করে চলে আসা এক শান্তিনিকেতনি রমনীকে পেয়ে আজ প্রতিটি বকুল ধন্য;
আর সেখানে তুমি নিজেকে করছো তুচ্ছ?
বাংলা একাডেমি,কার্জনের বাতাসে ভেসে বেরানো প্রতিটা ধূলিকণা আজ আমাদের ছায়ার সাক্ষ্মী;
ঐ দূর আকাশের কাকগুলো কি জানে এই বাতাসে তোমার গন্ধ ভেসে আছে?
টিএসসির সামনের চুড়িওয়ালাদের পাএর কাছে কতগুলো জড়ি পরে আছে তা কি তুমি জানো?
তুমি কি জানো ঐ জড়িগুলোর মাঝে তোমার হাতের ঘাম লেগে আছে?
সম্ভবত জানো না
জানলে চলে আসতে নিজের ফেলে যাওয়ার ঐ অস্তিত্বের টানে।
হয়তবা শান্তিনিকেতনের কোনও এক নীলিমার বেশে নাহয় আবার এক ম্যারী কুরীর বেশে!
তুমি কি জানো?
রাতের আকাশের ধ্রুবতারাটাও জানে না তুমি কতটা সুন্দর তোমার ভাবনাগুলোর মাঝে;
সন্ধ্যের ঝিঁঝিঁপোকারাও বোকা;
তারাও জানে না তোমার মাঝে অপার সম্ভাবনার কথা।
আমি জানি;
আর জানে শহীদুল্লাহর পাড়ের নারকেল গাছজোড়া,
হাহা বোকা,তুমি কি ভেবেছো চাঁদটা জানে না?
সে আমার মনের চিৎকার শুনতে পারে।
তাই তো শুধুই পূর্ণীমার চাদটাই আমার আর্তনাদ জানে-জানে ভিতরের প্রতিটা হাহাকারের কথা!
কিন্তু এখন?
এখন কি হবে?
এখন যে ঘোর অমাবশ্যা ।।